কনটেন্ট রাইটিং শিখেছেন, কিন্তু কাজ খুঁজে পাচ্ছেন না, এবং বুজতেছেন ও না কীভাবে কোথায় কাজ পাবেন? তাহলে আজকের এই আর্টিকেল আপনার জন্য সঠিক সময়ে সঠিক সমাধান হতে চলেছে। যারা নতুন নতুন কনটেন্ট রাইটিং শিখেছেন এখন মনে প্রশ্ন জেগেছে, কনটেন্ট রাইটিং তো শিখলাম কাজ কোথায় পাবো? তাহলে এই পুরো আর্টিকেল মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

শুধু লেখার দক্ষতা থাকলেই আয় শুরু হয়ে যায় না। এমন জায়গায় পৌঁছাতে হয় যেখানে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসা লেখার জন্য মানুষ খুঁজছে। কেউ সরাসরি লেখক নিয়োগ করে, কেউ প্রকল্প প্রকাশ করে, আবার কোনো প্ল্যাটফর্মে লেখক নিজের সেবা সাজিয়ে সম্ভাব্য ক্রেতার সামনে তুলে ধরতে পারেন।

এই কারণে নতুনদের অনেকেই প্রথম দিকে বিভ্রান্ত হন। কোন সাইটে নিবন্ধ লিখতে হবে, কোথায় আবেদন করতে হবে, কোথায় নিজের সেবা প্রকাশ করতে হবে—সব প্ল্যাটফর্মের নিয়ম এক নয়।

আগের লেখায় আমরা কনটেন্ট রাইটিং করে আয়ের কার্যকর উপায়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। সেখানে দক্ষতা তৈরি, পোর্টফোলিও এবং ক্লায়েন্টের সঙ্গে কাজের পদ্ধতি ছিল মূল বিষয়। এবার সেই আলোচনার পরের ধাপে এসে দেখা যাক, বাস্তবে কোন কোন সাইটে কনটেন্ট রাইটিংয়ের কাজ খুঁজতে পারেন এবং প্রতিটি প্ল্যাটফর্ম কীভাবে ব্যবহার করা যায়।

কনটেন্ট রাইটিংয়ের কাজ পাওয়ার সাইট মূলত দুই ধরনের

সব সাইটকে একই ধরনের কাজের জায়গা ভাবলে ভুল হবে। একটি বড় অংশ হলো ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস, যেখানে ক্লায়েন্ট প্রকল্প দেয় এবং লেখক আবেদন বা প্রস্তাব পাঠান। অন্যদিকে কিছু সাইট মূলত চাকরির বিজ্ঞপ্তি বা লেখালেখির নির্দিষ্ট কাজ প্রকাশ করে।

বাংলাদেশি লেখকের জন্য আবার আরেকটি পথ আছে—দেশীয় চাকরির সাইটে কনটেন্ট রাইটার, কপিরাইটার, সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট রাইটার বা সম্পাদকীয় কাজ খোঁজা। তাই নিচের তালিকায় আন্তর্জাতিক ও বাংলাদেশভিত্তিক সুযোগ আলাদা করে দেখা হয়েছে।

বাংলাদেশি লেখকদের জন্য দেশীয় সাইট

১. বিডিজবস

বাংলাদেশে কনটেন্ট রাইটিংকে পেশা হিসেবে নিতে চাইলে শুধু ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসের দিকে তাকানোর দরকার নেই। বিডিজবস দেশের বড় চাকরির প্ল্যাটফর্মগুলোর একটি এবং সেখানে কনটেন্ট-সম্পর্কিত চাকরিও প্রকাশিত হয়। বর্তমান সাইটে চাকরি খোঁজার পাশাপাশি কাজের ধরন, বিভাগ, কর্মস্থল এবং অন্যান্য ফিল্টার ব্যবহার করা যায়।

কনটেন্ট রাইটারের কাজ সব সময় “Content Writer” নামেই প্রকাশ হবে এমন নয়। “Copywriter”, “Creative Content Writer”, “Social Media Content Writer”, “SEO Content Writer” বা “Content Executive” নামেও বিজ্ঞপ্তি আসতে পারে। সাম্প্রতিক একটি বিডিজবস বিজ্ঞপ্তিতে ওয়েবসাইট, ব্লগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিজ্ঞাপন প্রচারণার জন্য লেখা এবং এসইও-সংক্রান্ত কাজের কথা ছিল।

আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, এখানে শুধু বাসায় বসে করা কাজ নয়; অফিসভিত্তিক, চুক্তিভিত্তিক বা অন্যান্য ধরনের চাকরিও পাওয়া যেতে পারে। তাই আপনি যদি নিয়মিত চাকরি করতে চান, এটি আলাদা করে নজরে রাখার মতো জায়গা।

২. ওয়ার্কানা

ওয়ার্কানা একটি আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্ম, যেখানে বাংলাদেশ থেকেও ফ্রিল্যান্স প্রকল্প খোঁজা যায়। বাংলাদেশভিত্তিক ওয়েব কনটেন্ট লেখকদের জন্য আলাদা ফলাফল এবং বাংলাদেশ থেকে আর্টিকেল রাইটিংয়ের প্রকল্পের পাতাও রয়েছে।

এখানে মূল পদ্ধতি হলো প্রকল্প খুঁজে নিজের প্রস্তাব পাঠানো। ফলে শুধু লেখার নমুনা থাকলেই হবে না; কোন প্রকল্পের জন্য আবেদন করছেন সেটি বুঝে প্রস্তাব তৈরি করা দরকার।

বাংলাদেশ থেকে কাজ খুঁজছেন এমন নতুন লেখকদের জন্য এর একটি সুবিধা হলো, সরাসরি “Bangladesh” ফিল্টার ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট কাজ খোঁজা যায়।

আন্তর্জাতিক কনটেন্ট রাইটিংয়ের কাজের সাইট

৩. আপওয়ার্ক

আপওয়ার্ক কনটেন্ট রাইটিংয়ের কাজ খোঁজার জন্য বহুল ব্যবহৃত একটি আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্ম। এর আলাদা Content Writing Jobs বিভাগ রয়েছে এবং সেখানে ব্লগ লেখা, গবেষণা, স্ক্রিপ্ট, কপিরাইটিং, সম্পাদনা ও অন্যান্য লেখাভিত্তিক কাজ পাওয়া যায়। বর্তমানে প্ল্যাটফর্মটির কনটেন্ট রাইটিং পাতায় হাজার হাজার প্রকল্পের নমুনা দেখা যাচ্ছে।

এখানে সাধারণত নিজের প্রোফাইল তৈরি করে নির্দিষ্ট কাজের জন্য আবেদন করতে হয়। ফলে পোর্টফোলিও এবং কাজ অনুযায়ী প্রস্তাব লেখার দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ।

একজন নতুন লেখকের জন্য ভালো পদ্ধতি হতে পারে শুরুতেই বড় ও জটিল প্রকল্পের পেছনে না ছুটে নিজের দক্ষতার সঙ্গে মেলে এমন কাজ খোঁজা। যেমন আপনি যদি তথ্যভিত্তিক ব্লগ লিখতে পারেন, তাহলে সেই ধরনের কাজের জন্যই আবেদন করা উচিত।

৪. ফাইভার

ফাইভার-এর পদ্ধতি অন্য কিছু মার্কেটপ্লেস থেকে আলাদা। এখানে শুধু প্রকাশিত প্রকল্পে আবেদন করার বদলে লেখক নিজের সেবাকে একটি নির্দিষ্ট পরিষেবা হিসেবে সাজিয়ে দিতে পারেন।

ফাইভারের Writing & Translation বিভাগে Articles & Blog Posts, Website Content, Product Descriptions, Scriptwriting, Ghostwriting, Proofreading & Editing এবং Content Writing-এর মতো আলাদা সেবা রয়েছে।

ধরুন আপনি প্রযুক্তিবিষয়ক ব্লগ লেখেন। তাহলে আপনার সেবার বিবরণে স্পষ্টভাবে জানাতে পারেন আপনি কী ধরনের লেখা তৈরি করেন, কতটা গবেষণা করেন এবং কী ধরনের বিষয় নিয়ে কাজ করেন। এতে আপনার পরিষেবাটি সাধারণ “আমি লেখক” পরিচয়ের বদলে একটি নির্দিষ্ট কাজ হিসেবে দাঁড়ায়।

৫. ফ্রিল্যান্সার

Freelancer.com-এ কনটেন্ট রাইটিংয়ের জন্য আলাদা কাজের বিভাগ রয়েছে। প্ল্যাটফর্মটি ব্লগ পোস্ট, ওয়েবসাইট কনটেন্ট, পণ্যের বিবরণ, ভ্রমণবিষয়ক লেখা, ই-মেইল, সম্পাদনা এবং ঘোস্টরাইটিংসহ বিভিন্ন ধরনের কাজের উদাহরণ দেখায়।

এখানে প্রকল্পে আবেদন করার সময় কাজের বিবরণ মনোযোগ দিয়ে পড়া বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একই “content writing” বিভাগের মধ্যে কাজের ধরন, ভাষা, দক্ষতা এবং সময়সীমা অনেক আলাদা হতে পারে।

প্ল্যাটফর্মটির নিজস্ব নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রোফাইল সম্পূর্ণ করা, উপযুক্ত কাজ খোঁজা এবং প্রতিটি প্রকল্পের জন্য আলাদা করে প্রস্তাব তৈরি করা কাজ পাওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ।

৬. পিপলপারআওয়ার

PeoplePerHour-এ Content Writing-এর জন্য আলাদা প্রকল্প বিভাগ রয়েছে। সেখানে দূরবর্তী প্রকল্পসহ নির্দিষ্ট মূল্য বা ঘণ্টাভিত্তিক বিভিন্ন কাজ দেখা যায়।

এই প্ল্যাটফর্মে নিজের প্রোফাইলকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাদের ফ্রিল্যান্সার নির্দেশিকায় পোর্টফোলিও এবং কাজের নমুনাকে সম্ভাব্য ক্রেতার কাছে নিজের দক্ষতা দেখানোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তাই এখানে অ্যাকাউন্ট খোলার পর শুধু কাজের তালিকা দেখলেই হবে না। নিজের প্রোফাইল, লেখার নমুনা এবং আপনি কোন ধরনের সেবা দেন—এসব পরিষ্কারভাবে সাজানো দরকার।

৭. গুরু

Guru-তে Content Writing Jobs-এর আলাদা বিভাগ রয়েছে। পাশাপাশি Freelance Writers, Article Writers, Blog Writing Services, Editors এবং Copywriters-এর মতো কাজের বিভাগও রয়েছে।

Guru content writer

এখানে একজন লেখক নিজের প্রোফাইল ও সেবার বিবরণ তৈরি করে কাজ খুঁজতে পারেন। প্রকল্প অনুযায়ী কাজের ধরন ও পারিশ্রমিকের কাঠামোও আলাদা হতে পারে। Guru তাদের SafePay ব্যবস্থার মাধ্যমে কাজের অর্থ প্রদানের সুরক্ষা কাঠামোর কথা উল্লেখ করে।

৮. কনট্রা

Contra স্বাধীন পেশাজীবীদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে লেখকরাও প্রোফাইল তৈরি করে কাজ খুঁজতে পারেন। তাদের সাইটে Content Writers ও Writers-এর জন্য আলাদা বিভাগ রয়েছে এবং বিভিন্ন ধরনের লেখার সেবার উল্লেখ আছে।

আরো পড়ুনঃ অনলাইন ব্যবসা শুরু করার আগে দেখুন—কোন ধরনের ব্যবসা আপনার জন্য উপযোগী হতে পারে

Contra নিজেকে স্বাধীন পেশাজীবীদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উপস্থাপন করে এবং তাদের তথ্য অনুযায়ী সেখানে দূরবর্তী কাজ খোঁজা, ক্লায়েন্টের সঙ্গে প্রকল্প পরিচালনা এবং অর্থপ্রদানের ব্যবস্থাও রয়েছে। প্ল্যাটফর্মটি কমিশন-মুক্ত আয়ের সুবিধার কথাও উল্লেখ করে।

যাদের ভালো পোর্টফোলিও আছে এবং নিজেদের একটি পেশাদার পরিচয় তৈরি করতে চান, তাদের জন্য এই ধরনের প্ল্যাটফর্ম আলাদা কাজে আসতে পারে।

৯. প্রোব্লগার জবস

শুধু সাধারণ ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস নয়, লেখকদের জন্য বিশেষায়িত জব বোর্ডও রয়েছে। ProBlogger Jobs মূলত ব্লগ ও কনটেন্ট-সম্পর্কিত কাজের জন্য পরিচিত একটি জব বোর্ড। এখানে Blog Post Writing, Copywriting, Ghostwriting, Editing, Journalism, Research এবং Content Marketing-এর মতো কাজের বিভাগ রয়েছে।

সাইটটিতে বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের রিমোট ও ফ্রিল্যান্স লেখার বিজ্ঞপ্তিও দেখা যাচ্ছে।

তবে এটি ব্যবহার করার সময় একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—জব বোর্ডে বিজ্ঞাপন দেখলেই সেটিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিরাপদ ধরে নেওয়া উচিত নয়। ProBlogger নিজেও আবেদনকারীদের নিয়োগদাতার বিষয়ে যথাযথ যাচাই করতে সতর্ক করেছে এবং ফিশিং প্রতারণার ব্যাপারে আলাদা সতর্কতা দিয়েছে।

১০. টেক্সটব্রোকার

Textbroker সাধারণ ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসের চেয়ে কিছুটা আলাদা। এটি লেখক ও ব্যবসার মধ্যে লিখিত কনটেন্টের কাজের সংযোগ তৈরি করে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, লেখকেরা বিভিন্ন ধরনের অ্যাসাইনমেন্টে কাজ করতে পারেন এবং মান অনুযায়ী লেখার সুযোগ ও পারিশ্রমিকের কাঠামো থাকে।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা আছে। Textbroker-এর মার্কিন লেখক ব্যবস্থায় স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস এবং বৈধ মার্কিন পরিচয়পত্রের প্রয়োজন বলে তাদের তথ্যেই উল্লেখ আছে। তাই বাংলাদেশ থেকে বসে কোনো সাইটে অ্যাকাউন্ট খোলার আগে সেই সাইটের নিজস্ব দেশভিত্তিক যোগ্যতা অবশ্যই যাচাই করতে হবে।

এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা: কোনো সাইটে “লেখক হিসেবে কাজ করা যায়” লেখা থাকলেই বাংলাদেশ থেকে আপনি অবশ্যই নিবন্ধন করতে পারবেন—এমন ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

এক নজরে কোন সাইটে কী ধরনের সুযোগ?

সাইট মূল সুযোগ কাজ পাওয়ার ধরন কার জন্য উপযোগী
বিডিজবস দেশীয় চাকরি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন চাকরি বা প্রতিষ্ঠানে লেখার কাজ খোঁজেন যারা
ওয়ার্কানা ফ্রিল্যান্স প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক প্রকল্প খুঁজছেন যারা
আপওয়ার্ক বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট কাজ প্রকল্পে আবেদন ফ্রিল্যান্সিংকে নিয়মিত পেশা হিসেবে নিতে চান যারা
ফাইভার ব্লগ, ওয়েবসাইট, পণ্যের বিবরণ, স্ক্রিপ্ট ইত্যাদি নিজের সেবা প্রকাশ নির্দিষ্ট ধরনের লেখার সেবা বিক্রি করতে চান যারা
ফ্রিল্যান্সার ব্লগ, ওয়েবসাইট, পণ্যের বিবরণসহ বিভিন্ন কাজ প্রকল্পে বিড বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প পরীক্ষা করতে চান যারা
পিপলপারআওয়ার কনটেন্ট ও লেখার প্রকল্প প্রকল্প ও সেবা পোর্টফোলিওসহ কাজ খুঁজছেন যারা
গুরু কনটেন্ট, ব্লগ, নিবন্ধ ও কপিরাইটিং কাজ খোঁজা ও আবেদন বিভিন্ন ধরনের লেখার কাজ করতে চান যারা
কনট্রা স্বাধীন লেখক ও কনটেন্ট কাজ প্রোফাইল ও প্রকল্প পেশাদার পোর্টফোলিও তৈরি করেছেন যারা
প্রোব্লগার জবস ব্লগ ও লেখালেখির চাকরি জব পোস্টে আবেদন ব্লগ ও দীর্ঘ লেখায় আগ্রহী যারা
টেক্সটব্রোকার বিভিন্ন লিখিত কনটেন্ট লেখক হিসেবে নিবন্ধন ও অ্যাসাইনমেন্ট যোগ্য দেশ/অঞ্চলের লেখকদের জন্য

দেশি সাইট নাকি বিদেশি—কোন পথে শুরু করবেন?

এখানে একটিকে সবার জন্য একইভাবে উপযুক্ত বলা ঠিক হবে না। আপনার লক্ষ্য কী, সেটিই আগে পরিষ্কার করা দরকার।

আপনি যদি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত চাকরি করতে চান, তাহলে দেশীয় চাকরির সাইটে নজর দেওয়া স্বাভাবিক পথ। সেখানে শুধু “অনলাইনে আয়” ধরনের কাজ নয়, অফিসভিত্তিক কনটেন্ট রাইটার, কপিরাইটার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের লেখক বা সম্পাদকীয় পদও পাওয়া যেতে পারে।

আরো পড়ুনঃ জিমেইল তৈরি করে প্রতিদিন ইনকাম করুন ২০০+ টাকা (সম্পূর্ণ ফ্রি)

অন্যদিকে স্বাধীনভাবে বিভিন্ন ক্লায়েন্টের সঙ্গে কাজ করতে চাইলে আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেস বেশি প্রাসঙ্গিক হতে পারে। সেখানে একটি প্রতিষ্ঠানের চাকরির পরিবর্তে বিভিন্ন প্রকল্পে আবেদন করা যায়।

আর যদি আপনি নির্দিষ্ট একটি সেবা বিক্রি করতে চান, যেমন “বাংলা প্রযুক্তি ব্লগ লেখা” বা “ই-কমার্স পণ্যের বিবরণ লেখা”, তাহলে নিজের সেবাকে পরিষ্কারভাবে সাজিয়ে দেওয়া যায় এমন প্ল্যাটফর্ম আপনার জন্য বেশি মানানসই হতে পারে।

সাইট বাছাইয়ের আগে এই বিষয়গুলো যাচাই করুন

শুধু সাইটের নাম দেখেই নিবন্ধন করা ঠিক নয়। প্রতিটি প্ল্যাটফর্মের নিয়ম আলাদা এবং সময়ের সঙ্গে সেগুলো পরিবর্তিতও হতে পারে। অ্যাকাউন্ট খোলার আগে অন্তত নিচের বিষয়গুলো দেখুন:

  • বাংলাদেশ থেকে লেখক হিসেবে নিবন্ধন করা যায় কি না
  • আপনার ভাষায় কাজ পাওয়ার বাস্তব সুযোগ আছে কি না
  • পারিশ্রমিক কীভাবে দেওয়া হয়
  • অর্থ উত্তোলনের পদ্ধতি বাংলাদেশ থেকে ব্যবহারযোগ্য কি না
  • প্ল্যাটফর্মের নিজস্ব ফি বা কমিশন আছে কি না
  • কাজের জন্য আবেদন করতে কোনো খরচ লাগে কি না
  • পরিচয় যাচাইয়ের কী নিয়ম আছে
  • ক্লায়েন্টের সঙ্গে যোগাযোগের নিয়ম কী
  • বিরোধ হলে অভিযোগ বা অর্থ সুরক্ষার ব্যবস্থা কী

বিশেষ করে পেমেন্টের ক্ষেত্রে “এই সাইটে সবাই সহজেই টাকা তুলতে পারে” ধরনের পুরোনো ব্লগ তথ্যের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের বর্তমান নিয়ম দেখা উচিত।

বাংলা লেখকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা

আন্তর্জাতিক সাইটে কনটেন্ট রাইটিংয়ের কাজের বড় অংশ ইংরেজিভিত্তিক হতে পারে। তবে তার অর্থ এই নয় যে বাংলা লেখকের কোনো সুযোগ নেই। বরং বাংলা ভাষার বাজার, স্থানীয় ব্যবসা, বাংলাদেশভিত্তিক ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং দেশীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা ধরনের কাজ রয়েছে।

আরো পড়ুনঃ অনলাইনে কি কি কাজ করে টাকা ইনকাম করা যায়? বাস্তবসম্মত কাজের তালিকা

আপনি যদি বাংলা ও ইংরেজি দুটোতেই ভালো লিখতে পারেন, তাহলে সম্ভাব্য কাজের ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হয়। তবে নিজের দক্ষতা সম্পর্কে বাড়িয়ে দাবি না করে যে ভাষায় আপনি পেশাদার মানের লেখা দিতে পারেন, সেই ভাষাকেই সামনে রাখা ভালো।

শুধু “Content Writer” লিখে কাজ খুঁজবেন না

কাজ খোঁজার সময় একটি শব্দ ব্যবহার করে সার্চ করলে অনেক সম্ভাব্য সুযোগ চোখের বাইরে থেকে যেতে পারে। একই ধরনের কাজ বিভিন্ন নামে প্রকাশ হতে পারে।

তাই প্রয়োজনে এসব শব্দ দিয়েও খুঁজে দেখতে পারেন:

  • Content Writer
  • Web Content Writer
  • SEO Content Writer
  • Blog Writer
  • Article Writer
  • Copywriter
  • Content Creator
  • Technical Writer
  • Product Description Writer
  • Script Writer
  • Editor
  • Proofreader

তবে যে কাজের নামই হোক, বিজ্ঞপ্তির ভেতরের দায়িত্বগুলো পড়ে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। “Content Writer” পদে কখনো কখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনা, ভিডিও সম্পাদনা, গ্রাফিক ডিজাইন বা বিপণনের কাজও যুক্ত থাকতে পারে।

কাজের সাইটে প্রোফাইল বানানোর সময় কী লিখবেন?

প্রোফাইলের প্রথম কয়েকটি লাইনে আপনার মূল দক্ষতা পরিষ্কার হওয়া উচিত। “আমি অনেক পরিশ্রমী এবং সময়নিষ্ঠ” বলার চেয়ে আপনি কী ধরনের লেখা করেন সেটি বলা বেশি কার্যকর।

আরো পড়ুনঃ নতুন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য কাজের দাম নির্ধারণের পদ্ধতি: কত টাকা চাইবেন ও কীভাবে হিসাব করবেন

উদাহরণ হিসেবে একজন লেখক যদি প্রযুক্তিবিষয়ক নিবন্ধে দক্ষ হন, তাহলে তার পরিচয়ে প্রযুক্তি, সফটওয়্যার, অনলাইন সেবা বা সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে লেখার অভিজ্ঞতা স্পষ্ট করা যেতে পারে।

পোর্টফোলিওতে আবার শুধু সাধারণ লেখা না রেখে যে ধরনের কাজ পেতে চান, সেই ধরনের নমুনা রাখা ভালো। আপনি পণ্যের বিবরণ লিখতে চান অথচ পোর্টফোলিওতে শুধু গল্প থাকলে সম্ভাব্য ক্লায়েন্টের কাছে আপনার দক্ষতা বোঝানো কঠিন হবে।

কাজের বিজ্ঞপ্তি দেখে যে ভুলটি করবেন না

একটি বিজ্ঞপ্তিতে বড় পারিশ্রমিক লেখা দেখেই আবেদন করা উচিত নয়। কাজের বিবরণে কী চাওয়া হয়েছে সেটি পড়ুন। অনেক সময় অল্প লেখার কাজের সঙ্গে গবেষণা, তথ্য যাচাই, সম্পাদনা, ছবি খোঁজা, ওয়ার্ডপ্রেসে প্রকাশ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কাজও যুক্ত থাকে।

আবার কোনো কোনো বিজ্ঞপ্তিতে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান চাওয়া হতে পারে। যেমন অর্থনীতি, চিকিৎসা, আইন, প্রযুক্তি বা সফটওয়্যার। আপনার জ্ঞান না থাকা সত্ত্বেও শুধু পারিশ্রমিক দেখে আবেদন করলে পরে কাজের মান ধরে রাখা কঠিন হবে।

কাজ পাওয়ার আগে প্রতারণা কীভাবে এড়াবেন?

লেখালেখির কাজ খোঁজার সময় নিরাপত্তাকে আলাদা বিষয় হিসেবে দেখুন। বিশেষ করে কেউ যদি কাজ দেওয়ার আগে অস্বাভাবিক পরিমাণ টাকা চায়, ব্যক্তিগত ব্যাংক তথ্য বা পাসওয়ার্ড চায়, অচেনা ফাইল ডাউনলোড করতে বলে কিংবা প্ল্যাটফর্মের বাইরে সন্দেহজনক অর্থ লেনদেন করতে চাপ দেয়, তাহলে সতর্ক হওয়া দরকার।

ProBlogger-এর নিজস্ব সতর্কতাতেও জব বোর্ডভিত্তিক ফিশিংয়ের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে, যেখানে চাকরির আবেদনকারীদের ক্ষতিকর ফাইল ডাউনলোড করিয়ে তথ্য চুরির চেষ্টা করা হয়।

তাই কাজের বিজ্ঞপ্তি সত্যি কি না, প্রতিষ্ঠানটি বাস্তব কি না এবং অর্থ প্রদানের নিয়ম পরিষ্কার কি না—এসব যাচাই করে তারপর এগোনো ভালো।

একটি সাইটে কাজ না পেলে কী করবেন?

একটি প্ল্যাটফর্মে কয়েকটি আবেদন করে সাড়া না পেলেই কনটেন্ট রাইটিং আপনার জন্য কাজ করবে না—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার দরকার নেই। প্রতিটি প্ল্যাটফর্মে ক্লায়েন্টের ধরন, প্রতিযোগিতা এবং কাজের চাহিদা আলাদা।

বরং কয়েকটি প্ল্যাটফর্ম পর্যবেক্ষণ করে দেখুন কোথায় আপনার দক্ষতার সঙ্গে বেশি মিল পাওয়া যাচ্ছে। একই পোর্টফোলিও সব জায়গায় কপি করে দেওয়ার বদলে সংশ্লিষ্ট কাজ অনুযায়ী নমুনা বাছাই করুন।

যেমন বাংলা ব্লগের কাজের জন্য বাংলা লেখার নমুনা সামনে রাখুন, আর প্রযুক্তিবিষয়ক ইংরেজি কাজের জন্য সেই ধরনের ইংরেজি নমুনা দেখান। এতে আবেদনটি অনেক বেশি নির্দিষ্ট হয়।

নতুনদের জন্য একটি বাস্তব শুরু করার পদ্ধতি

আপনি যদি একেবারে নতুন হন, তাহলে একসঙ্গে দশটি সাইটে অ্যাকাউন্ট খোলার প্রয়োজন নেই। প্রথমে দুই বা তিনটি প্ল্যাটফর্ম বেছে নিয়ে সেগুলোর নিয়ম ভালোভাবে বুঝুন।

একটি দেশীয় চাকরির প্ল্যাটফর্ম এবং একটি বা দুটি আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং সাইট দিয়ে শুরু করা যেতে পারে। এরপর আপনার অভিজ্ঞতা ও পোর্টফোলিও বাড়লে অন্য প্ল্যাটফর্মে যাওয়া সহজ হবে।

প্রথম লক্ষ্য হওয়া উচিত যত বেশি সম্ভব অ্যাকাউন্ট তৈরি করা নয়; বরং এমন একটি প্রোফাইল তৈরি করা যেখানে আপনার কাজের ধরন স্পষ্ট এবং নমুনাগুলো বিশ্বাসযোগ্য।

এই সাইটগুলো থেকে কত আয় হবে?

এখানে নির্দিষ্ট একটি অঙ্ক বলা ঠিক হবে না। কারণ একই প্ল্যাটফর্মে একজন লেখক ঘণ্টাভিত্তিক, প্রকল্পভিত্তিক, শব্দভিত্তিক বা দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে কাজ করতে পারেন। বিষয়ের জটিলতা, ভাষা, অভিজ্ঞতা, কাজের মান, ক্লায়েন্ট এবং প্রকল্পের পরিধি অনুযায়ী পারিশ্রমিক পরিবর্তিত হয়।

কাজ পাওয়ার সংখ্যা এবং আয়ের পরিমাণও স্থির নয়। তাই “এই সাইটে প্রতিদিন নির্দিষ্ট টাকা আয় করা যায়” ধরনের দাবি দেখলে সতর্ক থাকুন। বরং সাইটটিকে কাজ খোঁজার একটি মাধ্যম হিসেবে দেখুন এবং প্রতিটি প্রকল্পের শর্ত আলাদাভাবে বিচার করুন।

সাইটের তালিকা বড় হলেই সুযোগ বেশি হয় না

অনেকগুলো ওয়েবসাইটের নাম জানা নিঃসন্দেহে ভালো, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে আপনার লেখার নমুনা, বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা এবং আবেদন করার ধরন গুরুত্বপূর্ণ।

একজন নতুন লেখক যদি দশটি সাইটে অসম্পূর্ণ প্রোফাইল রাখেন, তার চেয়ে দুইটি প্ল্যাটফর্মে ভালোভাবে সাজানো প্রোফাইল এবং প্রাসঙ্গিক নমুনা থাকা বেশি কাজে লাগতে পারে।

তাই এই তালিকাকে শুধু “আরও সাইটে অ্যাকাউন্ট খোলার তালিকা” হিসেবে না দেখে আপনার জন্য কোন ধরনের কাজের বাজার উপযোগী তা খুঁজে বের করার একটি মানচিত্র হিসেবে ব্যবহার করুন।

শেষে আপনার জন্য সহজ সিদ্ধান্তের কাঠামো

আপনি যদি বাংলাদেশে থেকেই প্রতিষ্ঠানে কনটেন্ট রাইটারের চাকরি করতে চান, তাহলে বিডিজবসের মতো দেশীয় চাকরির সাইটে নিয়মিত খোঁজ করুন।

স্বাধীনভাবে বিভিন্ন ক্লায়েন্টের প্রকল্পে কাজ করতে চাইলে আপওয়ার্ক, ফ্রিল্যান্সার, ওয়ার্কানা, PeoplePerHour বা Guru-এর মতো প্ল্যাটফর্ম দেখতে পারেন।

নিজের নির্দিষ্ট লেখার সেবা প্যাকেজ করে সম্ভাব্য ক্লায়েন্টের সামনে রাখতে চাইলে Fiverr বা Contra-এর মতো প্ল্যাটফর্ম বিবেচনা করা যায়। আর ব্লগ ও লেখালেখি-কেন্দ্রিক জব বোর্ড খুঁজলে ProBlogger Jobs আলাদা করে দেখা যেতে পারে।

তবে কোনো প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধনের আগে বাংলাদেশ থেকে যোগ্যতা, বর্তমান কাজের সুযোগ, অর্থ গ্রহণের পদ্ধতি, ফি এবং ব্যবহারবিধি নিজস্ব সাইটে দেখে নিন। কারণ প্ল্যাটফর্মের নিয়ম পরিবর্তন হতে পারে এবং একটি দেশের লেখকের জন্য যে সুবিধা আছে, অন্য দেশের লেখকের জন্য সেটি নাও থাকতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—কাজ পাওয়ার জন্য শুধু সাইটের তালিকা দরকার হয় না। কোন ধরনের লেখা আপনি ভালোভাবে দিতে পারেন, সেই দক্ষতার সঙ্গে কোন বাজারের মিল আছে এবং কোন প্ল্যাটফর্মে সেই বাজারটি খুঁজে পাওয়া যায়—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে বুঝতে পারলেই আপনার কাজ খোঁজার প্রক্রিয়াটি অনেক বেশি বাস্তবসম্মত হবে।