এআই এখন আমাদের জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে। যে কোনো কাজে এআই এর ব্যবহার এখন অনেকটাই স্বাভাবিক। আমরা চাইলে এআই দিয়ে এখন সাহিত্যিক মানের গল্প ও লিখতে পারি। তবে তার জন্য আমাদের কে অবশ্যই কিছু বিষয় সম্পর্কে জানতে হবে। কেননা এআই দিয়ে একটি ছবি তৈরি করা যতটা সহজ,৩০০০+ শব্দের একটি গল্প লিখা তাও আবার সাহিত্যিক মানের ততোটা সহজ নয়। তাই আমি আপনাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছি এআই দিয়ে সাহিত্যিক মানের গল্প এবং প্রবন্ধ লিখার কৌশল নিয়ে এবং সেই গল্প দিয়ে কি ভাবে অনলাইনে ইনকাম করা যায় সেই বিষয়ে স্পষ্ট আলোচনা করতে।

এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি?

সহজ ভাবে বললে,এআই হলো এমন একটি প্রযুক্তি, যার সাহায্যে কম্পিউটার বা সফটওয়্যার মানুষের মতো কিছু কাজ করতে পারে। যেমন—লেখা তৈরি করা, প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, ছবি বানানো, তথ্য বিশ্লেষণ করা এবং নতুন ধারণা দেওয়া।

গল্প লেখার জন্য কোন এআই টুল ব্যবহার করবেন?

আমরা বর্তমানে উপলব্ধ ফ্রী এআই মডেল গুলি ব্যবহার করেই,সাহিত্যিক মানের গল্প লিখবো। এক্ষেত্রে আমরা চ্যাটজিপিটি, ক্লোড, জেমিনি এআই টুলকে ব্যবহার করতে পারি। একেক জনের কাছে একেকটা সহজ হতে পারে। আমার কাছে চ্যাটজিপিটি কে বেশি উপযুক্ত মনে হয়, তাই আমি চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করি। আসলে একেকটা টুল একেক কাজের জন্য একটু বেশি পারদর্শী।

যেমন:

চ্যাটজিপিটি: এটি দিয়ে গল্প লিখা, প্রফেশনাল মানের থাম্বনেইল বানানো, গুগল থেকে তথ্য যাচাই করা ইত্যাদি বেশি ভালো ফলাফল দেয়।

জেমিনি: এটি দিয়ে ও গল্প লেখা যায় তবে চ্যাটজিপিটি এর মতো হিউম্যান টোন দিতে পারেনা। তবে জেমিনি এর ওয়ার্ড লিমিট ভালো দেই।

ক্লোড : ক্লোড এআই ডিপ রিসার্চ, এনালাইসিস, ওয়েবসাইট, কোডিং ইত্যাদি কাজ করার জন্য বেস্ট অপশন।

তবে এসব এআই এর ফলাফল কে রকম হবে তা অনেকটাই নির্ভর করে ব্যবহারকারীর উপর। সঠিক প্রম্পট, প্রফেশনাল মানের প্রম্পট দিলে অনেক বিষয়ে সর্বোচ্চ ফলাফল পাওয়া সম্ভব। তাহলে আমরা সব থেকে পরিচিতি এবং ফ্রী মডেল গুলির থেকে Chatgpt এবং জেমিনিকে বেছে নিলাম,সাহিত্যিক মানের গল্প লিখার জন্য। আপনে চাইলে যেকোনোটাই ব্যবহার করতে পারেন।

আসুন এবার এআই দিয়ে সাহিত্যিক মানের গল্প কীভাবে লিখা যায় সেটি হতে কলমে শিখে নেই।

এআই দিয়ে সাহিত্যিক মানের গল্প লেখার পদ্ধতি

এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি আসলেই সাহিত্যিক মানের গল্প দিতে পারবে? হ্যাঁ অবশ্যই পারবে। তবে আপনাকে সেই ফলাফল পাওয়ার জন্যে এআই কে কিছুটা ট্রেইন করতে হবে। শুধু “একটি সাহিত্যিক মানের গল্প লিখে দাও” এই ধরনের প্রম্পট দিলে হবেনা। বা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাবেন না। এর জন্য চাই কিছু কৌশল কিছু প্রম্পট এবং কিছু ট্রিকস,যেগুলি নিয়ে এখন আমি আলোচনা করবো।

এআই থেকে ধারণা নিন

প্রথমেই এআই দিয়ে পুরো ৩০০০+ ওয়ার্ডের একটি গল্প লেখার চিন্তা করবেন না। আগে এআই কে প্রশিক্ষণ দিন আসলে আপনে তার কাছ থেকে কি পেতে চান। তার আগে এআই থেকে গল্পের ধারণা নিন। যেমন: গল্পের নাম,গল্পের প্রেক্ষাপট কি কি রাখা যায়। গল্পের শব্দ সংখ্যা, গল্পের চরিত্র, সেই চরিত্রের প্রবাহ কি ভাবে রাখলে ভালো হয় এসব বিষয়ে এআই কে জিজ্ঞেস করে করে, মোটামুটি একটি গল্পের কাঠামো বানিয়ে ফেলুন এবং সেটি নোট করে রাখুন।

আরো পড়ুনঃ বিনা ইনভেস্ট এ বিজ্ঞাপন দেখে প্রতিদিন ইনকাম করুন ৫০+ টাকা

কি ভাবে এআই থেকে গল্পের ধারণা নিবেন? এআইকে বলুন,” আমি সাহিত্যিক মানের কিছু ছোট গল্প লিখতে চাই, যার জন্য কিছু নাম বানিয়ে দাও। মনে রাখবা আমার গল্পের বিষয় মূলত শৈশবের স্মৃতি নিয়ে ”  দেখবেন এআই আপনাকে অনেক টাইটেল বা গল্পের নাম দিবে। সেখান থেকে আপনার বিষয়ের সাথে বেশি মানানসই হয় এমন দুএকটি নাম নোট করে রাখুন। তাহলে গল্পের নাম সংগ্রহ হয়ে গেলো এবার আবার এআইকে বলুন ,” আমার [গল্পের নাম] এই গল্পের জন্য ঘটনার প্রেক্ষাপট বিষয় বস্তু, চরিত্র, চরিত্র প্রবাহ কি রকমের হলে ভালো হয় বিস্তারিত তুলে ধর ” দেখবেন এআই আপনাকে অনেক ভালো ভালো ধারণা দিবে। সেগুলিকে কাজে লাগিয়ে আপনে একটি সম্পুর্ণ ছোট গল্প লিখে ফেলতে পারবেন।

এআইকে ট্রেইন করানো

বর্তমানে প্রত্যেক এআই এর মেমোরি সিস্টেম আছে ।যার মাধ্যমে একজন ইউজার এর ঐ এআই এর সাথে করা সকল কথোপকথন সংরক্ষণ হয়ে থাকে। এবং এআই পরবর্তীতে ফলাফল উপস্থাপনের সময় পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতার সাথে মিল রেখে অনেক কিছুই সাজেস্ট করে এবং অনেক উত্তর পূর্ববর্তী করা কথোপকথনের সাথে সামঞ্জস্য রেখেই দেই। তাই আপনে এআই দিয়ে সাহিত্যিক মানের গল্প লিখতে চাইলে সেই এআই এর সাথে শুধু গল্প নিয়েই আলোচনা করুন এবং করতে থাকুন। তাহলে এআই অনেকটাই ট্রেইন করা হয়ে যাবে। এআইকে গল্প সম্পর্কে,সাহিত্যিক হওয়ার সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন করুন। প্রথম দিকে এআইকে দিয়ে ছোট ছোট গল্প বানিয়ে নিন। ভুল হলে সংশোধন করতে বলুন, গল্পের বিভিন্ন অংশ আরো উন্নত করতে বলুন। গল্পে মানুষের স্বাভাবিক টোন দিতে বলুন। এভাবে ওই এআই গল্প লেখার প্রতি আরও এক্টিভ হবে।

প্রফেশনাল মানের প্রম্পট দিন

এআই দিয়ে সাহিত্যিক মানের গল্প লিখার সব থেকে দরকারী এবং কার্যকরী উপায় হচ্ছে প্রফেশনাল মানের প্রম্পট দেওয়া। আপনে এআইকে প্রম্পট দিলেন “একটি ছোট গল্প লিখো”

এবং আমি এআইকে প্রম্পট দিলাম ” সাহিত্যিক মানের একটি ২০০০+ শব্দের, হুবহু মানুষের মতো লেখনীর টোন এ একটি শৈশবের স্মৃতি বিষয়ক ছোট গল্প লিখে দাও ” ।

এখানে দেখুন তো কোন প্রম্পট এ ভালো একটি গল্প পাবেন? অবশ্যই আমারটা থেকেই পাবেন। কেননা আমি এআইকে বেশি তথ্য দিয়েছি এবং এআই অনেকটাই পরিষ্কার ধারণা আমার দেওয়া প্রম্পট থেকে পেয়েছে। অন্যদিকে আপনার দেওয়া প্রম্পট এ তেমন স্পষ্ট কোনো ধারণা পায়নি। তাই এআই থেকে ও আপনার মন মতো ফলাফল পাবেন না। তাহলে আমরা কি বুঝলাম? অবশ্যই এআইকে হতো স্পষ্ট ধারণা দিবেন এআইও ততই স্পষ্ট ফলাফল আপনাকে দিবে। এই জন্যই প্রম্পট খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

কয়েকটি স্পেশ্যাল প্রম্পট

এই প্রম্পট গুলি দেওয়ার আগে অবশ্যই গল্পের নাম এবং চরিত্র নিজের প্রয়োজন মতো পরিবর্তন করে নিবেন।

ছোট গল্প লিখার প্রম্পট:

তুমি একজন দক্ষ ও সৃজনশীল বাংলা ছোটগল্পকার। তোমার কাজ হলো পাঠকের মনোযোগ ধরে রাখার মতো একটি মৌলিক, আবেগপূর্ণ ও সাহিত্যিক মানসম্পন্ন বাংলা ছোটগল্প লেখা।

 

গল্পের বিষয়: [এখানে গল্পের বিষয় লিখুন]

 

গল্প লেখার নির্দেশনা:

 

১. গল্পটি সহজ, প্রাঞ্জল ও স্বাভাবিক বাংলায় লিখবে। ভাষা হবে একজন অভিজ্ঞ মানুষের স্বাভাবিক লেখনীর মতো; কৃত্রিম, যান্ত্রিক বা অতিরিক্ত অলংকারপূর্ণ হবে না।

 

২. গল্পের শুরুতেই এমন একটি ঘটনা, দৃশ্য বা পরিস্থিতি তুলে ধরবে, যা পাঠকের মনে কৌতূহল তৈরি করে এবং তাঁকে গল্পের শেষ পর্যন্ত পড়তে আগ্রহী রাখে।

 

৩. গল্পের চরিত্রগুলো বাস্তবসম্মত হবে। তাদের আচরণ, কথাবার্তা, অনুভূতি ও সিদ্ধান্তের মধ্যে স্বাভাবিকতা থাকতে হবে।

 

৪. কাহিনিতে একটি স্পষ্ট মূল ঘটনা, যৌক্তিক অগ্রগতি এবং অর্থবহ পরিণতি থাকবে। অপ্রয়োজনীয় বর্ণনা, একই কথা বারবার বলা এবং অকারণে দৃশ্য পরিবর্তন করা যাবে না।

 

৫. সংলাপগুলো চরিত্রের বয়স, পরিস্থিতি ও সামাজিক অবস্থানের সঙ্গে মানানসই হবে। সংলাপের মাধ্যমে চরিত্রের অনুভূতি ও সম্পর্ক ফুটিয়ে তুলবে।

 

৬. গল্পে আবেগ, দ্বন্দ্ব, বিস্ময় বা রহস্যের উপযুক্ত ব্যবহার করবে। তবে পাঠককে আবেগপ্রবণ করার জন্য কৃত্রিম নাটকীয়তা বা অবাস্তব ঘটনা যোগ করবে না।

 

৭. গল্পের পরিবেশ, স্থান ও পরিস্থিতি এমনভাবে বর্ণনা করবে, যেন পাঠক ঘটনাগুলো নিজের কল্পনায় দেখতে পারেন।

 

৮. গল্পের সমাপ্তি হবে স্বাভাবিক, অর্থবহ এবং মনে রাখার মতো। প্রয়োজনে একটি সূক্ষ্ম চমক বা গভীর উপলব্ধি রাখা যাবে, তবে তা যেন কাহিনির সঙ্গে যৌক্তিকভাবে মেলে।

 

৯. প্রচলিত গল্পের কাহিনি, পরিচিত চরিত্র বা অন্য লেখকের বাক্য নকল করবে না। নতুন চরিত্র, নিজস্ব ঘটনা ও স্বতন্ত্র উপস্থাপনার মাধ্যমে মৌলিক গল্প তৈরি করবে।

 

১০. গল্পের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় উপদেশ, জোর করে নীতিকথা, লেখার প্রক্রিয়া সম্পর্কে মন্তব্য কিংবা পাঠকের উদ্দেশে সরাসরি নির্দেশনা যোগ করবে না।

 

গল্পের দৈর্ঘ্য: ৭০০–৯০০ শব্দ।

 

আউটপুটের ধরন:

 

– গল্পের জন্য একটি আকর্ষণীয় ও যথাযথ শিরোনাম দেবে।

– শিরোনামের পর সরাসরি গল্প শুরু করবে।

– প্রয়োজন অনুযায়ী ছোট ছোট অনুচ্ছেদ ব্যবহার করবে।

– গল্পের বাইরে কোনো ভূমিকা, ব্যাখ্যা, লেখকের মন্তব্য বা অতিরিক্ত প্রস্তাবনা দেবে না।

লেখা শেষ করার আগে নীরবে যাচাই করবে—কাহিনিতে কোনো অসংগতি আছে কি না, চরিত্রের আচরণ বিশ্বাসযোগ্য কি না, সংলাপ স্বাভাবিক কি না এবং কোনো বাক্য বা ঘটনা অপ্রয়োজনীয়ভাবে পুনরাবৃত্ত হয়েছে কি না। প্রয়োজন হলে সংশোধন করে শুধু চূড়ান্ত গল্পটি উপস্থাপন করবে।

এখানে গল্পের দৈঘ্য আপনার প্রয়োজন মতো দিবেন।

এআই দিয়ে প্রবন্ধ লিখার প্রম্পট:

তুমি একজন অভিজ্ঞ বাংলা প্রাবন্ধিক, গবেষণাধর্মী লেখক ও দক্ষ সম্পাদক। তোমার কাজ হলো নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর একটি মৌলিক, তথ্যসমৃদ্ধ, যুক্তিনির্ভর ও পাঠকবান্ধব বাংলা প্রবন্ধ লেখা।

প্রবন্ধের বিষয়: [এখানে বিষয়ের নাম লিখুন]

প্রবন্ধ লেখার নির্দেশনা:

১. প্রবন্ধটি সহজ, প্রাঞ্জল ও স্বাভাবিক বাংলায় লিখবে। ভাষা হবে পরিণত ও সাবলীল, যেন একজন অভিজ্ঞ লেখক নিজের জ্ঞান, চিন্তা ও বিশ্লেষণ থেকে বিষয়টি ব্যাখ্যা করছেন।

২. প্রবন্ধের শুরুতে বিষয়টির প্রাসঙ্গিকতা, বাস্তব সমস্যা বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রশ্ন তুলে ধরবে। অপ্রয়োজনীয় ভূমিকা কিংবা একই কথা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বলা যাবে না।

৩. বিষয় অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য, যুক্তি, বাস্তব উদাহরণ, পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ ব্যবহার করবে। শুধু সাধারণ বক্তব্য দিয়ে অনুচ্ছেদ দীর্ঘ করবে না।

৪. প্রতিটি অনুচ্ছেদে একটি নির্দিষ্ট ধারণা বা যুক্তি ব্যাখ্যা করবে। এক অনুচ্ছেদের সঙ্গে পরের অনুচ্ছেদের যৌক্তিক সংযোগ থাকবে, যাতে পুরো লেখাটি স্বাভাবিক ধারাবাহিকতায় এগিয়ে যায়।

৫. প্রবন্ধে প্রয়োজন অনুযায়ী কারণ, প্রভাব, সুবিধা, অসুবিধা, চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা ও করণীয় বিশ্লেষণ করবে। বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কহীন কোনো বিভাগ যুক্ত করবে না।

৬. প্রয়োজনীয় তথ্যের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য উৎস ব্যবহার করবে। কোনো পরিসংখ্যান, গবেষণা, উদ্ধৃতি, ঘটনা বা সূত্র যাচাই করা সম্ভব না হলে সেটিকে সত্য হিসেবে উপস্থাপন করবে না। কোনো তথ্য বানিয়ে লেখা যাবে না।

৭. প্রবন্ধে লেখকের নিজস্ব বিশ্লেষণ, তুলনা ও যুক্তির প্রতিফলন থাকবে। প্রচলিত কথার পুনরাবৃত্তি, ফাঁপা প্রশংসা, অতিরঞ্জিত দাবি কিংবা ভিত্তিহীন সিদ্ধান্ত এড়িয়ে চলবে।

৮. একই শব্দ, বাক্যগঠন, উদাহরণ বা বক্তব্য অপ্রয়োজনীয়ভাবে পুনরাবৃত্তি করবে না। অযথা ইংরেজি শব্দ ব্যবহার না করে যথাসম্ভব উপযুক্ত বাংলা শব্দ বেছে নেবে।

৯. বিষয়টি বোঝানোর জন্য প্রয়োজন হলে বাস্তব উদাহরণ, ছোট তালিকা বা উপশিরোনাম ব্যবহার করবে। তবে প্রবন্ধকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে অনেক ছোট ছোট বিভাগে ভাগ করবে না।

১০. প্রবন্ধের শেষাংশে আলোচিত বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো থেকে একটি যুক্তিসংগত উপলব্ধি বা বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরবে। আলাদা করে ‘উপসংহার’, ‘সারমর্ম’ বা ‘শেষ কথা’ শিরোনাম ব্যবহার করবে না।

প্রবন্ধের দৈর্ঘ্য: ১,০০০–১,৫০০ শব্দ।

লেখার কাঠামো:

– বিষয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি অর্থবহ শিরোনাম।

– প্রাসঙ্গিক ও আকর্ষণীয় সূচনা।

– যৌক্তিক ধারাবাহিকতায় মূল আলোচনা।

– তথ্য, যুক্তি ও উদাহরণভিত্তিক বিশ্লেষণ।

– স্বাভাবিক ও অর্থবহ সমাপ্তি।

চূড়ান্ত যাচাই: লেখা শেষ করার আগে তথ্যের নির্ভুলতা, যুক্তির ধারাবাহিকতা, ভাষার স্বাভাবিকতা, অনুচ্ছেদের সংযোগ এবং পুনরাবৃত্তি পরীক্ষা করবে। যাচাই করা হয়নি এমন তথ্যকে যাচাইকৃত বলে দাবি করবে না। প্রবন্ধের বিষয় অনুযায়ী সব নির্দেশনা প্রয়োগ করবে এবং শেষে শুধু সম্পূর্ণ প্রবন্ধটি দেবে—অতিরিক্ত ব্যাখ্যা বা লেখকের মন্তব্য নয়।

এই প্রম্পট দিলে এআই যথা সম্ভব সাহিত্যিক মানের প্রম্বন্ধ দিবে।

আরো পড়ুনঃ টেলিগ্রাম চ্যানেল থেকে আয় করার ১০টি বাস্তব উপায়

এআই দিয়ে ধারাবাহিক উপন্যাস লিখার প্রম্পট: 

ধারাবাহিক উপন্যাসের ক্ষেত্রে বিষয় টি একটু জটিল তবে আমি যে ভাবে বলবো সেভাবে করতে পারলে, এআই সাহিত্যিক মানের উপন্যাস ও লিখে দিবে। এক্ষেত্রে প্রথমেই এআই কে দিয়ে উপন্যাসের নাম, চরিত্র, প্রেক্ষাপট ও উপন্যাসের কয়টি পর্ব থাকবে, কতো শব্দের পর্বগুলি হবে, নতুন চরিত্র কখন আসবে, পর্বের ধারাবাহিকতা কি রকমের হবে, ইত্যাদি নির্বাচন করে এআই থেকে প্রত্যেক পর্বের টাইটেল বানিয়ে নিন। এক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি কে ব্যবহার করতে পারেন।

 

তারপর একটি বেস প্রম্পট বানিয়ে ফেলুন। সেই অনুযায়ী প্রথম পর্বের জন্যে বেস প্রম্পটকে মডিফাই করে জেমিনি কে দিন। জেমিনি প্রথম পর্ব বানিয়ে দিলে সেই চ্যাট কে পিন করে রাখুন।

ধারাবাহিক উপন্যাস লেখার স্পেশ্যাল বেস প্রম্পট

আগের পর্বের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে পরবর্তী পর্ব লেখার জন্য

তোমার ভূমিকা: তুমি একজন দক্ষ বাংলা ঔপন্যাসিক ও সাহিত্য সম্পাদক। তোমার কাজ হলো আমার দেওয়া পরিকল্পনা অনুসারে একটি মৌলিক, সাহিত্যিক মানসম্পন্ন এবং ধারাবাহিক উপন্যাস লেখা। প্রতিটি পর্ব আগের পর্বের ঘটনাপ্রবাহ থেকে স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে যাবে। উপন্যাসের চরিত্র, ভাষা, পরিবেশ, সম্পর্ক ও কাহিনির ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।

১. উপন্যাসের স্থায়ী তথ্য

উপন্যাসের নাম: [এখানে উপন্যাসের নাম লিখুন]

ধরন: [রহস্য / সামাজিক / রোমান্টিক / পারিবারিক / ঐতিহাসিক / অন্যান্য]

প্রেক্ষাপট: [সময়, স্থান ও সামাজিক পরিবেশ]

প্রধান চরিত্র: [নাম, বয়স, ব্যক্তিত্ব, অতীত ও উদ্দেশ্য]

মোট পর্ব: [মোট পর্বের সংখ্যা]

প্রতি পর্বের শব্দসংখ্যা: [প্রয়োজনীয় শব্দসংখ্যা]

লেখার ধরন: স্বাভাবিক, সাবলীল, মানবিক, আবেগপূর্ণ ও সাহিত্যিক বাংলা।

২. আগের পর্বের ধারাবাহিকতা

নতুন পর্ব লেখার আগে নিচের তথ্যগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়বে। এগুলোই বর্তমান পর্বের কাহিনি এগিয়ে নেওয়ার ভিত্তি।

আগের পর্বের সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ:

[এখানে আগের পর্বে কী ঘটেছে, তা ১৫০–৩০০ শব্দে লিখুন]

আগের পর্বের শেষ দৃশ্য:

[শেষ দৃশ্যে কে কোথায় ছিল, কী ঘটেছিল এবং দৃশ্যটি কীভাবে শেষ হয়েছিল]

চরিত্রগুলোর বর্তমান অবস্থা:

[চরিত্রগুলোর অবস্থান, সম্পর্ক, অনুভূতি, জানা তথ্য ও তাদের উদ্দেশ্য]

অমীমাংসিত ঘটনা বা রহস্য:

[যেসব প্রশ্নের উত্তর এখনো দেওয়া হয়নি, অসমাপ্ত ঘটনা ও ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র]

সময় ও স্থান:

[বর্তমান কাহিনি কোন সময়ে ও কোথায় অবস্থান করছে]

৩. বর্তমান পর্বের নির্দেশনা

পর্ব নম্বর: [যেমন—পর্ব ২]

পর্বের শিরোনাম: [এখানে নির্ধারিত শিরোনাম লিখুন]

এই পর্বের মূল ঘটনা: [এই পর্বে কী ঘটবে, তা লিখুন]

যে বিষয়গুলো এগিয়ে নিতে হবে: [চরিত্রের সম্পর্ক, রহস্য, দ্বন্দ্ব বা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা]

যে তথ্য এখনই প্রকাশ করা যাবে না: [গোপন পরিচয়, ভবিষ্যতের চমক বা অমীমাংসিত রহস্য]

পর্বের শেষের পরিকল্পনা: [পরবর্তী পর্বের জন্য কোন পরিস্থিতি বা প্রশ্ন রেখে যেতে চান]

৪. আগের পর্ব থেকে বর্তমান পর্ব শুরু করার নিয়ম

বর্তমান পর্বের শুরু আগের পর্বের শেষ দৃশ্য, ঘটনা বা চরিত্রের প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে যৌক্তিকভাবে যুক্ত করবে। আগের পর্ব যেখানে শেষ হয়েছে, বর্তমান পর্ব সেখানকার পরিস্থিতি থেকেই এগোবে।

উদাহরণস্বরূপ, আগের পর্বে কোনো চরিত্র একটি রহস্যময় চিঠি পেয়ে থাকলে, পরের পর্বে তার প্রতিক্রিয়া, চিঠির বিষয়বস্তু নিয়ে তার সিদ্ধান্ত অথবা চিঠির কারণে তৈরি হওয়া নতুন পরিস্থিতি থেকে কাহিনি এগিয়ে নেওয়া যেতে পারে। অকারণে অন্য দিন, অন্য স্থান বা নতুন ঘটনা দিয়ে শুরু করবে না, যদি না স্থান বা সময় পরিবর্তনের যৌক্তিক কারণ থাকে।

আগের পর্বের শেষের ঘটনা হুবহু পুনরায় লিখবে না। প্রয়োজন হলে সংক্ষিপ্তভাবে আগের পরিস্থিতির উল্লেখ করে নতুন ঘটনা শুরু করবে। সময়ের ব্যবধান থাকলে সেটি স্পষ্ট করবে এবং সেই সময়ে কী পরিবর্তন ঘটেছে, তা কাহিনির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেখাবে।

৫. চরিত্র ও কাহিনির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা

  • আগের পর্বে প্রতিষ্ঠিত চরিত্রের নাম, বয়স, ব্যক্তিত্ব, সম্পর্ক ও অতীতের তথ্য পরিবর্তন করবে না।
  • কোনো চরিত্র যে তথ্য জানে না, যথাযথ কারণ ছাড়া তাকে সেই তথ্য জানা আছে এমনভাবে দেখাবে না।
  • আগের পর্বে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ভুলে গিয়ে পরস্পরবিরোধী কাহিনি তৈরি করবে না।
  • নতুন চরিত্র, নতুন রহস্য বা নতুন দ্বন্দ্ব যুক্ত করলে তার সঙ্গে মূল কাহিনির যৌক্তিক সম্পর্ক রাখবে।
  • আগে তৈরি করা রহস্য ও সূত্রগুলো মনে রেখে উপযুক্ত সময়ে সেগুলোর পরিণতি দেখাবে।
  • চরিত্রের আচরণে পরিবর্তন এলে তার পেছনে বিশ্বাসযোগ্য ঘটনা বা মানসিক কারণ থাকবে।

৬. সাহিত্যিক মান ও লেখার ধরন

গল্পটি এমনভাবে লিখবে, যেন পাঠক চরিত্রের অনুভূতি, পরিবেশ এবং ঘটনাগুলো বাস্তবভাবে উপলব্ধি করতে পারেন। সংলাপ স্বাভাবিক হবে এবং প্রতিটি চরিত্রের কথা বলার ধরন তার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানানসই হবে।

অতিরিক্ত নাটকীয়তা, অকারণ কান্নাকাটি, কৃত্রিম আবেগ, একই তথ্যের পুনরাবৃত্তি এবং অপ্রয়োজনীয় বর্ণনা এড়িয়ে চলবে। প্রতিটি দৃশ্য কাহিনি এগিয়ে নেওয়া, চরিত্রের বিকাশ অথবা পরিবেশ নির্মাণে ভূমিকা রাখবে।

কাহিনিতে চমক থাকলে তা পূর্ববর্তী ঘটনা ও সূত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। শুধু পাঠককে অবাক করার জন্য অবাস্তব ঘটনা যুক্ত করবে না। অন্য কোনো লেখকের নির্দিষ্ট গল্প, চরিত্র বা বাক্য নকল না করে স্বতন্ত্র কাহিনি নির্মাণ করবে।

৭. বর্তমান পর্বের সমাপ্তি

পর্বের শেষে মূল ঘটনার একটি অর্থবহ অগ্রগতি থাকবে। প্রয়োজনে নতুন প্রশ্ন, আবেগপূর্ণ মুহূর্ত, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত অথবা অপ্রত্যাশিত তথ্যের মাধ্যমে পরবর্তী পর্বের আগ্রহ তৈরি করবে। তবে প্রতিটি পর্বে জোর করে রহস্য বা চমক তৈরি করার প্রয়োজন নেই।

বর্তমান পর্বের সমাপ্তি এমনভাবে লিখবে, যাতে পরবর্তী পর্বের শুরু সেই পরিস্থিতি থেকে স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়। মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী এই পর্বে যে ঘটনাগুলো ঘটার কথা, সেগুলো সম্পূর্ণভাবে উপস্থাপন করবে।

৮. লেখা শেষ করার আগে যাচাই

চূড়ান্ত লেখা দেওয়ার আগে নীরবে যাচাই করবে—আগের পর্বের শেষ দৃশ্যের সঙ্গে বর্তমান পর্বের শুরু যুক্তিসংগত কি না, চরিত্রের তথ্য ও সম্পর্ক ঠিক আছে কি না, সময় ও স্থানের কোনো অসংগতি আছে কি না, একই ঘটনা বারবার এসেছে কি না এবং পর্বের শেষ অংশ ভবিষ্যৎ কাহিনির জন্য উপযুক্ত ভিত্তি তৈরি করেছে কি না।

কোনো অসংগতি থাকলে তা সংশোধন করবে। প্রয়োজনীয় তথ্য অনুপস্থিত থাকলে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নিজের মতো বদলে না দিয়ে আমার কাছে প্রশ্ন করবে।

চূড়ান্ত নির্দেশনা: উপরের উপন্যাসের স্থায়ী তথ্য, আগের পর্বের সারসংক্ষেপ এবং বর্তমান পর্বের নির্দেশনা একসঙ্গে বিবেচনা করে শুধু নির্ধারিত পর্বটি লিখবে। আগের পর্বের ধারাবাহিকতা থেকে কাহিনি শুরু করবে। পর্বের নম্বর ও শিরোনাম দেবে। অতিরিক্ত ব্যাখ্যা, লেখার প্রক্রিয়া সম্পর্কে মন্তব্য অথবা ভবিষ্যতের পর্ব লিখবে না।

এভাবে  সাহিত্যিক মানের উপন্যাস ও বানাতে পারবেন।

 

এআই দিয়ে লেখা গল্প থেকে আয়ের ৫টি বাস্তব উপায়

এআইয়ের সাহায্যে গল্পের খসড়া তৈরি করে নিজের সৃজনশীলতা ও সম্পাদনার মাধ্যমে মানসম্মত লেখা তৈরি করতে পারেন। সেই গল্প থেকে আয়ের কয়েকটি বাস্তব সুযোগ রয়েছে।

গ্রাহকের জন্য গল্প লেখা: ব্যক্তি, কনটেন্ট নির্মাতা বা ছোট প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী গল্প লিখে পারিশ্রমিক নিতে পারেন।

প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানে গল্প জমা: প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের নির্দেশনা মেনে মৌলিক গল্প লিখে জমা দিতে পারেন। গল্প গ্রহণ ও প্রকাশের ওপর আয় নির্ভর করবে।

ই-বুক বিক্রি: কয়েকটি মৌলিক গল্প একত্র করে ই-বুক তৈরি করে অনলাইন বিক্রির ব্যবস্থা করতে পারেন।

নিজের ব্লগে গল্প প্রকাশ: নিজের ব্লগে নিয়মিত গল্প প্রকাশ করে পাঠক তৈরি করতে পারেন। যোগ্যতা ও নীতিমালা পূরণ করে বিজ্ঞাপন বা অন্য বৈধ উপায়ে আয়ের সুযোগ হতে পারে।

ফ্রিল্যান্সিং: ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মে গল্প লেখা, চরিত্র তৈরি ও কাহিনি সাজানোর সেবা দিতে পারেন।

গল্পের অ্যাপস থেকে:  বর্তমানে অনলাইনে অনেক বিশ্বস্ত গল্প প্রকাশের অ্যাপস বা ওয়েবসাইট আছে সেগুলিতে গল্প প্রকাশ করে,তাদের নীতিমালা অনুযায়ী আপনারা চাইলেই ইনকাম করতে পারবেন। এই রকমের একটি ওয়েবসাইট এবং অ্যাপস হলো ami Poddoja অ্যাপ। এটি নিয়ে ইতিমধ্যে আমাদের একটি আর্টিকেল আছে, সেখানে আমরা গল্প লিখে অনলাইন থেকে ইনকাম করার বিস্তারিত ও পূর্নাঙ্গ গাইড আকারে লেখেছি। আপনে চাইলে নিচের লিংক থেকে দেখতে পারেন। এবং গল্প দিয়ে ইনকাম করতে পারেন।

বাংলা গল্প, প্রবন্ধ বই লিখে অনলাইনে ইনকাম করার উপায় ( পূর্ণাঙ্গ গাইড)

মনে রাখবেন: শুধু এআই দিয়ে গল্প তৈরি করলেই আয় নিশ্চিত হয় না। গল্পের মৌলিকতা, ভাষার মান, নিজের সম্পাদনা এবং গ্রাহক বা প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের শর্ত মেনে চলাই গুরুত্বপূর্ণ।

 

এআই দিয়ে গল্প লিখে আয় করতে গিয়ে যে ভুলগুলো এড়াবেন

এআইয়ের সাহায্যে গল্প লেখা শুরু করা সহজ, কিন্তু সেই গল্প পাঠকের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলা এবং তা থেকে আয় করা একটু সময়সাপেক্ষ। শুরুতেই কিছু ভুল এড়াতে পারলে পরবর্তী সময়ে কাজের মান ধরে রাখা সহজ হবে।

১. হুবহু এআইয়ের লেখা প্রকাশ করা

এআই দিয়ে গল্প তৈরি করেই সরাসরি প্রকাশ করবেন না। গল্পটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। সংলাপ, চরিত্রের আচরণ, ঘটনার ধারাবাহিকতা ও আবেগ স্বাভাবিক লাগছে কি না দেখুন। প্রয়োজন অনুযায়ী নিজের ভাষায় সম্পাদনা করুন এবং নতুন সৃজনশীল উপাদান যোগ করুন।

২. অন্যের লেখা নকল করা

কোনো জনপ্রিয় লেখকের গল্প বা অনলাইন থেকে পাওয়া লেখা এআইকে দিয়ে সামান্য পরিবর্তন করিয়ে নিজের নামে প্রকাশ করা ঠিক নয়। এতে মৌলিকতা নষ্ট হয় এবং আইনি বা প্রকাশনাসংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হতে পারে। অন্যের লেখা থেকে ধারণা নিলেও নিজের কাহিনি, চরিত্র ও উপস্থাপনায় স্বতন্ত্রতা বজায় রাখুন।

৩. কপিরাইটের বিষয়টি উপেক্ষা করা

গল্পের সঙ্গে ব্যবহৃত ছবি, প্রচ্ছদ, চরিত্র বা অন্য উপাদান ব্যবহারের অধিকার আছে কি না, তা যাচাই করুন। এআই টুলের ব্যবহারের শর্তও পড়ে নিন। কোনো গ্রাহক বা প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের কাছে গল্প জমা দেওয়ার আগে জেনে নিন, তারা এআই-সহায়তায় তৈরি লেখা গ্রহণ করে কি না এবং স্বত্ব হস্তান্তরের কোনো শর্ত আছে কি না।

৪. প্ল্যাটফর্মের নীতিমালা না পড়া

সব ওয়েবসাইটে একই ধরনের লেখা প্রকাশ বা বিক্রি করা যায় না। কোথাও এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট প্রকাশের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্ত থাকতে পারে। তাই ব্লগ, ই-বুক বিক্রির ওয়েবসাইট কিংবা ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মে কাজ শুরুর আগে তাদের নিয়ম পড়ে নিন। নিজের কাজ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য গোপন করবেন না।

৫. ভুয়া কাজের প্রস্তাবে বিশ্বাস করা

অনলাইনে কিছু ব্যক্তি গল্প লেখার কাজ দেওয়ার কথা বলে আগে নিবন্ধন ফি, জামানত বা প্রশিক্ষণের নামে টাকা চাইতে পারে। আবার কেউ বড় অঙ্কের আয়ের নিশ্চয়তা দিয়েও প্রলুব্ধ করতে পারে। কাজের শর্ত ও গ্রাহকের পরিচয় যাচাই না করে টাকা দেবেন না। সম্ভব হলে প্ল্যাটফর্মের নিরাপদ পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে কাজ করুন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এআইকে লেখার সহকারী হিসেবে ব্যবহার করা—নিজের চিন্তা ও সম্পাদনার বিকল্প হিসেবে নয়। ভালো গল্প তৈরি করতে সময় লাগে, আর আয়ের সুযোগ তৈরি হতেও ধৈর্য ধরে কাজ করতে হয়।

 নতুনদের জন্য প্রথম ৭ দিনের কাজের পরিকল্পনা

এআই দিয়ে গল্প লিখে আয় করতে চাইলে শুরুতেই অনেকগুলো গল্প তৈরি করার দরকার নেই। বরং প্রথম সাত দিন কাজে লাগান লেখার দক্ষতা বাড়াতে, নমুনা তৈরি করতে এবং কোথায় কাজ পাওয়া যেতে পারে তা বুঝতে। নিচের পরিকল্পনাটি অনুসরণ করে ধীরে ধীরে এগোতে পারেন।

আরো পড়ুনঃ কনটেন্ট রাইটিং করে আয়: কাজ পাওয়ার দেশি-বিদেশি সাইটের তালিকা

প্রথম দিন: গল্পের ধরন নির্বাচন করুন

আপনি কোন ধরনের গল্প লিখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, তা ঠিক করুন। যেমন—রহস্য, পারিবারিক গল্প, রোমান্টিক গল্প, শিশুতোষ গল্প বা সামাজিক গল্প। শুরুতে একটি বা দুটি ধরন বেছে নিলে অনুশীলনে মনোযোগ দেওয়া সহজ হবে।

দ্বিতীয় দিন: এআই দিয়ে গল্পের খসড়া তৈরি করুন

নির্বাচিত বিষয়ের ওপর একটি ভালো প্রম্পট লিখে গল্পের খসড়া তৈরি করুন। গল্পের চরিত্র, পরিবেশ, মূল দ্বন্দ্ব এবং শেষটা কেমন হবে, সে সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা দিন।

তৃতীয় দিন: গল্প সম্পাদনা করুন

আগের দিনের গল্পটি আবার পড়ুন। অপ্রয়োজনীয় সংলাপ বাদ দিন, দুর্বল অংশগুলো সংশোধন করুন এবং চরিত্রের আচরণ যেন স্বাভাবিক হয়, সেদিকে নজর দিন। লক্ষ্য রাখুন, গল্পটি যেন কেবল শব্দের সমষ্টি না হয়ে পাঠকের আগ্রহ ধরে রাখতে পারে।

চতুর্থ দিন: দ্বিতীয় একটি গল্প লিখুন

এবার অন্য একটি বিষয় নিয়ে কাজ করুন। এতে আপনার লেখার বৈচিত্র্য বাড়বে এবং কোন ধরনের গল্প লিখতে আপনি বেশি দক্ষ, তা বুঝতে পারবেন।

পঞ্চম দিন: নিজের নমুনা তৈরি করুন

সম্পাদনা করা সেরা দুটি গল্প গুছিয়ে রাখুন। প্রতিটি গল্পের উপযুক্ত শিরোনাম দিন এবং বানান ও বিন্যাস ঠিক করুন। এগুলোই পরবর্তী সময়ে সম্ভাব্য গ্রাহক বা প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের কাছে আপনার লেখার নমুনা হিসেবে কাজে লাগতে পারে।

ষষ্ঠ দিন: কাজের সুযোগ খুঁজুন

গল্প লেখার কাজ প্রকাশ করে এমন ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্ম, প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের জমা দেওয়ার নির্দেশনা এবং ই-বুক বিক্রির উপযোগী মাধ্যম খুঁজে দেখুন। প্রতিটি জায়গার নিয়ম, পারিশ্রমিক ও এআই-সংক্রান্ত নীতিমালা যাচাই করুন।

সপ্তম দিন: আবেদন ও পর্যালোচনা করুন

আপনার নমুনা অনুযায়ী উপযুক্ত কয়েকটি কাজের জন্য আবেদন করুন অথবা কোনো প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের নির্দেশনা অনুসারে গল্প জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিন। পাশাপাশি গত ছয় দিনের কাজ পর্যালোচনা করে দেখুন, কোথায় উন্নতি করা দরকার।

সাত দিন পরই আয় শুরু হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। তবে এই সময়ের মধ্যে আপনার হাতে কয়েকটি সম্পাদিত গল্প, একটি প্রাথমিক পোর্টফোলিও এবং কাজ খোঁজার পরিষ্কার পরিকল্পনা থাকবে। এরপর নিয়মিত লেখার অনুশীলন ও মানসম্মত কাজের মাধ্যমে সুযোগ তৈরি করার চেষ্টা করুন।

 

আশাকরি আজকের আর্টিকেল থেকে এআই দিয়ে সাহিত্যিক মানের গল্প লিখে অনলাইনে ইনকাম করার বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পেয়েছেন এবং অনেক কিছুই শিখেছেন। তবুও যদি কোথাও বুঝতে অসুবিধে হয় তাহলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাবেন। এবং প্রতিনিয়ত এই রকমের নিত্যনতুন অনলাইনে ইনকাম সম্পর্কিত তথ্য পেতে আমাদের Banglatrick সাথেই থাকুন ধন্যবাদ।